দুনিয়া থেকে পর্দা গ্রহণের বেলায় কারামাতঃ মোজাদ্দেদে জামান, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী মাদ্দা জিল্লুহুল আলী হুজুর কেবলার দুনিয়া থেকে পর্দা করার আগে জলন্ত কারামত প্রকাশ পেয়েছে। “কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কোন” (আকাইদে নছফী, আল্লামা সাদুদ্দিন তাফতাজানি রহঃ) অর্থাৎ অলি আল্লাহরগনের কারামত সত্য।
১) তিনি আগেই বলতেন যে, আমি রবিবারে পর্দা করবো, ঠিকই তিনি রবি বারে পর্দা করেছেন।
২) তিনি পর্দা করার আগের দিন,অর্থাৎ শনিবার দিন, তিনির নাতি মুফতি কুদ্দুস রেজভী, মুহাম্মদ রেজভী, মাওলানা বদরুল আমিন রেজভী, সহ আরো অনেকেই ছিল তাদেরকে ডাকিয়া বলিলেন, তোমরা শোন আগামি কাল ঈদের দিন। আর তোমরা খাসী ও আবাল কুরবানী দিও না। আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর সুন্নতকে শক্ত ভাবে আকড়ে ধরবে।
৩) তিনি পর্দা করার আধ ঘন্টা আগেই বলে দিলেন যে, আমি আধ ঘন্টার ভিতরে পর্দা করবো, ঠিকই তিনি আধ ঘন্টার ভিতরে পর্দা করলেন।
৪) তিনির গোসল করাইলেন আল্লামা মুফতী উহিদুর রহমান রেজভী ও আল্লামা গাজী মান্নান জিহাদী , মুফতী রমজান আলী রেজভী ও পাশে ছিলেন। যখন বাবা কে গোসল দেওয়া হয় তখন বাবাজান মুখ মোবারক থেকে একটি উফ্ শব্দ বের হল,এবং বুঝা যায় যে তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে রহিল। নিঃসন্দেহে তিনি জিন্দা অলি, তখন বাবাজান কে তাড়াতাড়ি করে গোসল করানো হল। এই ঘটনা গুলো মান্নান জিহাদী কসম করে জানাযার পূর্বে মাইক দিয়ে বলিলেন এবং মুফতী উহিদুর রহমান রেজভী ও মাইক দিয়ে বলিলেন।
৫) আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী বাবাজান কেবলার জানাযাই উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সুন্নী আন্দোলনের মহান ইমাম, ইমাম হায়াত আলাইহে রাহমা, তিনি মাইক দিয়ে আলোচনায় বলিলেন- আল্লামা রেজভী সাহ হুজুর কেবলার নিকট আমরা সমগ্র সুন্নি মিল্লাত ঋণী। তিনি যা বলতেন সব কোরআন ও হাদিস থেকে বলিতেন।
৬) আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী, তিনির জানাযায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এসে অংশ গ্রহণ করেন। এবং ভারত থেকে ও অনেকেই এসে জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন।
৭) তিনির জানাযায় কয়েক লক্ষ মানুষ হয়েছে।
৮) আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী দুনিয়া পর্দা করার একদিন আগ থেকে, পর্দা করার পর জানাযার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত অনবরত বৃষ্টি আর বৃষ্টি ছিল, যখন তিনার জানাযার সময় হল তখন বৃষ্টি একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। এটা কত বর জলন্ত কারামত, বৃষ্টি থাকলে মানুষ গুলো জানাযা করতে পারতো না।
৯) হুজুর কেবলা দুনিয়া পর্দা করলেন ৩০শে আগষ্ট ২০১৫ ইং, রোজ: রবিবার, সকাল ১০ ঘটিকা। ১৫ই ভাদ্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ ১৪৩৬ হিজরী।
১০) তিনির গোসল হচ্ছে রবিবার দিবাগত রাত্রে ৩’টার সময়। তিনির ১ম জানাযা হচ্ছে সোমবার বিকাল ২ টার সময়, ২য় জানাযা ৩ টার সময় ৩য় জানাযা ৩টা ৩০ মিনিটে। প্রথম জানাযা নামাজ পড়ালেন তিনির বড় ছেলে বর্তমান গদ্দীনিষিন পীর কেবলা আল্লামা ছদরুল আমিন রেজভী, দ্বিতীয় জানাযা নামাজ তিনির নাতি মুফতী আবু ছাদেক রেজভী, তৃতীয় জানাযা নামাজ পড়ালেন তিনির মেজু ছেলে আল্লামা ডাঃ সিরাজুল আমিন রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী।
রওজা শরীফঃ মোজাদ্দেদে জামান, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী মাদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে রেজভীয়া দরবার শরীফের প্রাঙ্গণে শেষ ইচ্ছাকৃত অনুযায়ী উনার মাজার শরীফ চির শয্যায় শায়িত আছেন।
আল্লাহ পাক আমাদের প্রাণ প্রিয় মুর্শিদ কেবলা মোজাদ্দেদে জামান, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী মাদ্দা জিল্লুহুল আলী বাবাজান কেবলার ফায়েজ তাওয়াজ্জু ও মোহাব্বৎ জিয়ারত আমাদের কে নছীব করুন, আমিন।
বর্তমান সংলাপের মুখোমুখি আল্লামা আকবর আলী রেজভী সাহেব হুজুর কেবলার বড় সন্তান আল্লামা ছদরুল আমিন রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী ঃ
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটটা বা এই দিনটার আগে পরের ঘটনাবলী কিংবা কবে থেকে তিনি অসুস্থ ও কবে ঢাকায় নিলেন একটু শুনতে চাচ্ছি।
উত্তরঃ তাঁর অগণিত ভক্ত ছিল সারা দেশেই। বেশ কিছুদিন বিছানায় থাকা অবস্থায় তিনি সবসময় তাদের নিয়েই চিন্তা করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রেখেছেন। শেষের দিনগুলোতে হুইল চেয়ারে বসেও বক্তব্য করেছেন। চলে যাওয়ার দুই দিন আগে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর সম্ভাব্য শিক্ষাজীবন সম্বন্ধে বলুন।
উত্তরঃ তাঁর তো সার্টিফিকেট কামিলেতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট গোল্ড মেডেল ছিল। ফালাসিফাতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন তৎকালীন ভারতে।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ কোথায় এটা?
উত্তরঃ ‘বেরেলিয়া শরীফ দিল্লি’ থেকে। আস্তে আস্তে ওই সার্টিফিকেটগুলো বিলুপ্ত বা হারিয়ে যায় বা সংরক্ষিত নাই আমাদের কাছে। হয়তো অন্য কারো সংরক্ষণে থাকতে পারে।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি নিজে কখনো বলেন নি যে সম্ভাব্য কোন সময়টায় তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন ?
উত্তরঃ এমনি সবাই আলোচনা করে যে, পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ বছর তিনি ছিলেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর বাবা অর্থাৎ আপনার দাদার নাম কি?
উত্তরঃ মরহুম মৌলবি শহর আলী রেজভী।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ মায়ের নাম কি ?
উত্তরঃ আলীমা আক্তার রেজভী।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁরা ক’ ভাই বোন ?
উত্তরঃ তাঁরা ছিলেন ৮ ভাই বোন। বোন ছিলেন একজন। আমার বাবা ছিলেন সপ্তম।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর জন্ম কোথায়?
উত্তরঃ গৌরিপুর থানার লংকাখোলা গ্রাম, ময়মনসিংহ জেলায়।
১০) তিনির গোসল হচ্ছে রবিবার দিবাগত রাত্রে ৩’টার সময়। তিনির ১ম জানাযা হচ্ছে সোমবার বিকাল ২ টার সময়, ২য় জানাযা ৩ টার সময় ৩য় জানাযা ৩টা ৩০ মিনিটে। প্রথম জানাযা নামাজ পড়ালেন তিনির বড় ছেলে বর্তমান গদ্দীনিষিন পীর কেবলা আল্লামা ছদরুল আমিন রেজভী, দ্বিতীয় জানাযা নামাজ তিনির নাতি মুফতী আবু ছাদেক রেজভী, তৃতীয় জানাযা নামাজ পড়ালেন তিনির মেজু ছেলে আল্লামা ডাঃ সিরাজুল আমিন রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী।
রওজা শরীফঃ মোজাদ্দেদে জামান, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী মাদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে রেজভীয়া দরবার শরীফের প্রাঙ্গণে শেষ ইচ্ছাকৃত অনুযায়ী উনার মাজার শরীফ চির শয্যায় শায়িত আছেন।
আল্লাহ পাক আমাদের প্রাণ প্রিয় মুর্শিদ কেবলা মোজাদ্দেদে জামান, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী মাদ্দা জিল্লুহুল আলী বাবাজান কেবলার ফায়েজ তাওয়াজ্জু ও মোহাব্বৎ জিয়ারত আমাদের কে নছীব করুন, আমিন।
বর্তমান সংলাপের মুখোমুখি আল্লামা আকবর আলী রেজভী সাহেব হুজুর কেবলার বড় সন্তান আল্লামা ছদরুল আমিন রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী ঃ
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটটা বা এই দিনটার আগে পরের ঘটনাবলী কিংবা কবে থেকে তিনি অসুস্থ ও কবে ঢাকায় নিলেন একটু শুনতে চাচ্ছি।
উত্তরঃ তাঁর অগণিত ভক্ত ছিল সারা দেশেই। বেশ কিছুদিন বিছানায় থাকা অবস্থায় তিনি সবসময় তাদের নিয়েই চিন্তা করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রেখেছেন। শেষের দিনগুলোতে হুইল চেয়ারে বসেও বক্তব্য করেছেন। চলে যাওয়ার দুই দিন আগে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর সম্ভাব্য শিক্ষাজীবন সম্বন্ধে বলুন।
উত্তরঃ তাঁর তো সার্টিফিকেট কামিলেতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট গোল্ড মেডেল ছিল। ফালাসিফাতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন তৎকালীন ভারতে।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ কোথায় এটা?
উত্তরঃ ‘বেরেলিয়া শরীফ দিল্লি’ থেকে। আস্তে আস্তে ওই সার্টিফিকেটগুলো বিলুপ্ত বা হারিয়ে যায় বা সংরক্ষিত নাই আমাদের কাছে। হয়তো অন্য কারো সংরক্ষণে থাকতে পারে।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি নিজে কখনো বলেন নি যে সম্ভাব্য কোন সময়টায় তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন ?
উত্তরঃ এমনি সবাই আলোচনা করে যে, পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ বছর তিনি ছিলেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর বাবা অর্থাৎ আপনার দাদার নাম কি?
উত্তরঃ মরহুম মৌলবি শহর আলী রেজভী।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ মায়ের নাম কি ?
উত্তরঃ আলীমা আক্তার রেজভী।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁরা ক’ ভাই বোন ?
উত্তরঃ তাঁরা ছিলেন ৮ ভাই বোন। বোন ছিলেন একজন। আমার বাবা ছিলেন সপ্তম।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর জন্ম কোথায়?
উত্তরঃ গৌরিপুর থানার লংকাখোলা গ্রাম, ময়মনসিংহ জেলায়।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ আপনার আম্মার নাম কি?
উত্তরঃ মোছাম্মত রাবেয়া আক্তার রেজভী। তাঁদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানায়। আমার নানা হচ্ছেন কারী মঈনুদ্দিন ভূইয়া। ১২ ভূইয়ার এক ভূইয়া ছিলেন, তাঁরা জমিদার বংশ।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ আপনার আম্মা চলে গেছেন কত দিন আগে?
উত্তরঃ তিনি চলে গেছেন ১৭ বছর চলতেছে।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ আপনারা ক’ভাই বোন?
উত্তরঃ আমরা তিন ভাই চার বোন। আমাদের এক ভাই অন্য তরিকাপন্থী, সে আমাদের থেকে আলাদা থাকে। আমার আব্বার মতের সাথে তার মত তেমন মিলতো না ।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ আপনার আব্বার শৈশব কৈশোরকালে পড়াশুনা সম্পর্কে কতদূর তথ্য আছে?
উত্তরঃ তিনি মাদ্রাসা লাইনে পড়াশোনা করেছেন। তিনি গৌরিপুর থেকে প্রতিদিন ১৭ মাইল হেঁটে গিয়ে ক্লাস করতেন। আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। ভারতের বেরেলিয়া শরীফ থেকে কামিল করেছেন। পড়াশুনা শেষ করে এরপর তিনি ফিরে আসেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি পেশাগতভাবে কি ছিলেন?
উত্তরঃ পেশাগত ভাবে তিনি ছাত্র জীবন থেকে খুব ভাল বক্তা ছিলেন। ঈশ্বরগঞ্জ, বোকাইনগরসহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইসলামপুরে ২৫ বছর প্রখ্যাত মোহাদ্দেস ছিলেন, হাদিস-কুরআন পড়িয়েছেন।
উত্তরঃ তিনি মাদ্রাসা লাইনে পড়াশোনা করেছেন। তিনি গৌরিপুর থেকে প্রতিদিন ১৭ মাইল হেঁটে গিয়ে ক্লাস করতেন। আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। ভারতের বেরেলিয়া শরীফ থেকে কামিল করেছেন। পড়াশুনা শেষ করে এরপর তিনি ফিরে আসেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি পেশাগতভাবে কি ছিলেন?
উত্তরঃ পেশাগত ভাবে তিনি ছাত্র জীবন থেকে খুব ভাল বক্তা ছিলেন। ঈশ্বরগঞ্জ, বোকাইনগরসহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইসলামপুরে ২৫ বছর প্রখ্যাত মোহাদ্দেস ছিলেন, হাদিস-কুরআন পড়িয়েছেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ আপনি কি তাঁকে শিক্ষকতা করা অবস্থায় দেখেছেন?
উত্তরঃ আমরা ছোট বেলায় যখন দেখেছি তখন তিনি সারা বছর মিলাদ মাহফিল নিয়ে ছিলেন সবসময়। এক বছর আগে থেকেই প্রতিটি কাজে তাঁর ডায়রী করা থাকত এবং তাঁর মাহফিলে সবচেয়ে বেশি মানুষ হতো। লক্ষ লক্ষ মানুষ।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি তরিকার দিকে কিভাবে গেছেন বলে আপনারা জানেন ?
উত্তরঃ বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মোজাদ্দেদ আলা হযরত আহমেদ রেজা খানের তিন ছেলে। এই তিন ছেলেই ছিলেন প্রখ্যাত মোজাদ্দেদ। মেজ ছেলে হযরত মোস্তফি রেজা খান ছিলেন আমার আব্বার পীর সাব। তাঁদের তরিকা হলো ক্বাদরিয়া তরিকা। এখান থেকে তিনি এই তরিকা গ্রহণ করেছেন। আলা রেজা খানের যারা ভক্ত তাদের রেজভীয়া উপাধি দেয়া হয়। রেজা খান থেকে রেজভীয়া। রেজভী মানে হলো আল্লাহ যাদের উপর রাজি। রেজভী হলো আমাদের উপাধি। ওখান থেকে খেলাফত নিয়ে আমার আব্বা আসলেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি কি কি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছেন?
উত্তরঃ তিনি কিশোরগঞ্জ গাফুরিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এরপর আমাদের ‘রেজভীয়া দরবার শরীফ, রেজভীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিম খানাও তাঁর প্রতিষ্ঠা। তিনি আরও অনেক প্রতিষ্ঠান করেছেন। হাফিজি উল কারিয়ানা মাদ্রাসা, প্রস্তাবিত আলিম মাদ্রাসা এমপি ভুক্ত দাখিল মদ্রাসাও তাঁর প্রতিষ্ঠা।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি কতগুলো দরবার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন?
উত্তরঃ ৩ হাজারের উপরে হবে সংখ্যা।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ ধর্মীয় সংগঠনের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা কোথায়?
উত্তরঃ ধর্মীয় সংগঠন বলতে আমরা সুন্নী জামাত কিন্তু পদবীর ক্ষেত্রে তিনি এর চেয়ারম্যান বা অন্য কোন পদেই থাকতেন না, তিনি এর উর্ধ্বে থাকতেন, তাঁর সময়ও ছিলনা। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতে আলোচনাই বেশি করতেন, যেটা কুরআন বলছে, তোমরা এই পথে সকলে আস, যেটা আল্লাহ ও রাসুলের ত্বরিকত পথে যায়, এটাই তো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি কি উদ্যোগ নিয়েছিলেন? না এটা আগে থেকেই ছিল?
উত্তরঃ আগে থেকে বাংলাদেশে এটা ছিলনা বা কম ছিল, তাঁর উদ্যোগেই এটা প্রকাশ পেয়েছে সারা বাংলাদেশে। এটার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বললেই চলে উনাকে। বর্তমানে প্রফেসার আব্দুল জলিল উনি আমাদের ওস্তাদ এবং আব্বা হুজুরের শিষ্য। আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বর্তমান কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি আমি।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণ সম্পর্কে আপনাদের কাছে কি তথ্য আছে ?
উত্তরঃ তিনি বাংলাদেশের বাইরে শুধু ভারতে গিয়েছেন, আর অন্য কোথাও যান নাই। বহুবার অনেকেই চেষ্টা করেছে তাঁকে নেয়ার জন্য কিন্তু তিনি যান নাই। কারণ তিনি ছিলেন ওহাবীদের ঘোর শত্রু, তাঁর কোন মাহফিলে ওহাবীরা কোনদিন ছাড় দেয় নাই। বারবার আক্রমণের চেষ্টা করেছে তারা। কোনদিন তিনি হজ্বেও যেতে পারেন নি। তাঁকে হজ্বে যেতে কঠিন বাধা প্রদান করা হবে বলে ওহাবীরা ঘোষনা দিতে থাকে এবং সৌদি সরকারওতো ওহাবী সরকার। যে কারণে তাঁর পক্ষ থেকে হজ্ব করেছি আমরা। আমি নিজে করেছি।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ ওহাবী ধারার বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামগুলো, যেমন একবারতো স্ট্যাব করা হয়েছিল তাঁকে, এটা কোথায় এবং কত বছর আগে ঘটেছিল ?
উত্তরঃ স্ট্যাবটা করা হয়েছিল সিলেটে। এটা প্রায় ১২ বছর আগের ঘটনা। এমনতো বহু জায়গায় তাঁকে আক্রমন করা হয়েছে, কিন্তু কিছু করতে পারে নাই।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ ওহাবী ধারার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই সংগ্রামের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো কি কি?
উত্তরঃ তিনি অনেক বই লিখেছেন। বিশেষ করে বাহাস যেগুলো হতো, এই বাহাসের বইগুলো আছে সারা বাংলাদেশে। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেটে, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সহ
বিভিন্ন জেলায় পাঠকদের কাছে আছে বইগুলো। ডিসি, জেলা প্রশাসকসহ বাহাসকৃত ব্যক্তিরা তাঁর কাছে মর্মান্তিকভাবে পরাজিত হয়েছে। হাজার হাজার বাহাসে তিনি সুন্দরভাবে জয়লাভ করেছেন সরকারিভাবে তাদের লিখিতসহ পরাজয় বরণ করেছে এবং এগুলো ছাপানো আছে। আমাদের সংগ্রহেও বেশ কিছু বই আছে। তাঁর ছবিও সংরক্ষিত আছে। কুরআন শরীফের উপর তিনি অনেক তফসির লিখেছেন। আব্বাজানের খাদেমগণ এগুলো সংরক্ষণ ও বিতরণ করতেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ ওহাবী ধারার বিরুদ্ধে আপনার আব্বার যে লড়াই-সংগ্রাম এটি এখন কোন অবস্থায় আছে বলে আপনি মনে করেন?
উত্তরঃ তিনিতো নবীজীর শানে কোন রকম কেউ বেআদবী করলে পছন্দ করতেন না। এমন প্রতিবাদ করতেন। এখন সারা দেশে তাঁর অনুসারীরা এ বিষয়ে অনেক সোচ্চার, একারণে ওহাবীরা এখন আর তেমন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। ফলে আগের মতো তারা যে আক্রমণটা করতো এ পরিবেশটা এখন বেশ ঠান্ডা এবং সারাদেশেই এখন তরিকতপন্থীরা আছে, তরীকতপন্থীরাই সুন্নাত ওয়াল জামাতের একটি অংশ। এই তরীকতপন্থীরাই সোচ্চার সারাদেশে।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তিনি চলে যাওয়ার আগে আপনাদের উদ্দেশ্যে কি বলেছেন বা আপনারা তাঁর কাছ থেকে কি কি দিক্ নির্দেশনা পেয়েছেন এবং উত্তরাধিকার হিসেবে কি নিতে পেরেছেন ?
উত্তরঃ আমাদেরকে তিনি দোয়া করে গেছেন আর বলে গেছেন, তোমাদের কোন সমস্যা নাই, তোমরা দয়াল নবীজীর আদর্শ ও সাহাবা কেরামদের আদর্শের উপর থেকো, ইনশাআল্লাহ তোমাদের কোন সমস্যা হবে না। তিনি সবচেয়ে বেশি বলতেন যে, মিথ্যা কথা বলবানা, অন্যের হক নষ্ট করোনা, আর নবীর আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। চলে যাওয়ার পূর্বে না খাওয়ার মধ্যেই ছিলেন তিনি ৫/৬ মাস। তাঁকে কিছুই খাওয়ানো যায়নি, কেবল ৪/৫ ফোটা করে পানি ছাড়া, দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস। তখন আব্বার কাছে দোয়া চেয়েছি, ‘আপনার মতো যেন, হক-এন্তেজাম পথে থাকতে, প্রচার-প্রসার করতে পারি আপনি সেই দোয়া করবেন দয়া করে’। আব্বার নির্দেশনা এটাই ছিল, আল্লাহ্র রাসুল ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, ও আউলিয়া কেরামগণের হক-মতবাদগুলো প্রচার, প্রসার করা, লোককে কষ্ট না দেয়া, হক পথে থাকা, মেহমানদের সম্মান করা ও আব্বাজানের আশেকদের খোঁজ খবর রাখা, তাদের খেদমত, আপ্যায়ণ করা, তাহলেই তিনি খুশি থাকবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য দিক খুব গেঁথে আছে অন্তরে যে, তিনি সব সময় খুব কম আহার করতেন, বলতেন যে, কাজ করো বেশি, খাও কম। তিনি অহেতুক কখনো সময় নষ্ট করেননি। এমনকি যখন তিনি শক্ত সমর্থ ছিলেন গাছ লাগাতেন, গাছের গোড়ায় পানি দিতেন, যতœ নিতেন। একসময় প্রায় দেড়শ কাঁঠাল গাছ লাগিয়েছেন তিনি, সেগুলোতে কাঁঠাল হতো। আর যখনই বিশ্রামে আসতেন তখনই কিতাব নিয়ে বসতেন, কিতাব লিখতেন। অন্য সময় সারাদেশে বিভিন্ন মাহফিলে-মাহফিলে যেতেন। দেখা গেছে মানুষকে সহায়তার ক্ষেত্রে অনেকে হয়তো পাঁচ-দশ হাজার টাকা সাহায্য বা টিন কিনে দিত, আর তিনি তাদের বিল্ডিং করে দিতেন। আমাদের আশেপাশে অসংখ্য বিল্ডিং আছে, তিনি করে দিয়েছেন। এমনকি গরীবের বাড়িতে তিনি মাথায় করে টিন নিয়ে যেতেন।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর উত্তরাধিকারটা বয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের সামনে কি কর্তব্যটা বেছে নিয়েছেন সামনের দিনগুলোতে ?
উত্তরঃ তিনি চলে যাবার সময়তো সবার সামনে আমাকে গদীনশীন হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন, সবার সম্মুখে বলেছেন, আমার বড় ছেলে এ দায়িত্ব নিবে, আর আমার পরে দায়িত্ব নিবে আমার মেঝ ভাই। এরপর থেকে আমি আছি, কিন্তু তাঁর মতো তো দায়িত্ব পালন করতে পারবো না, একজন বাহক হিসেবে নিয়ে যেতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে পারি কেবল।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে, তাঁর স্মৃতি, কর্ম ও নিদর্শনগুলো রক্ষায় আপনারা কি পরিকল্পনা নিয়েছেন ?
উত্তরঃ এক্ষেত্রে আমরা দুই ভাই-ই তাঁর যে সব এলাকা আছে, যেখানে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি আছে সেখানে বিভিন্ন মাহফিলে যাই এবং আমরা আশাবাদী তরিকত জগতে তিনি যে কাজগুলো করতেন, যদিও আমাদের জ্ঞান সাধনা সেরকম নেই, তবুও তিনি যে রকম কাজ করে গেছেন এবং আমাদেরকে বলে গেছেন ইনশাআল্লাহ আমরা সেই দায়িত্বটা পালন করতে পারবো।
সংলাপ প্রতিনিধিঃ তাঁর মুখ নিঃসৃত বাণী ও তাঁর লেখা, তাঁর পথ নির্দেশনা এই বিষয়গুলোকে সংরক্ষণ করা এবং এগুলো তাঁর ভক্তকুলের কাছে বা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য আপানদের কোন ভাবনা বা পরিকল্পনা আছে কি?
উত্তরঃ জি আছে। বিশেষ করে তাঁর লেখাগুলো আমরা আগামী ওরস বা ১০/১১ ফাল্গুনের আগেই প্রকাশ করবো, ইসলামের গবেষণার উপরে বাবার লিখিত প্রায় ৩ – ৪ শত গ্রন্থমালা আছে, যেগুলো আমরা যথাযথ প্রকাশ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এখন লোকজন আরো বেশি করে এগুলো চাচ্ছে, তাই বেশি করে এগুলো প্রকাশ করতে হবে আমাদের। তাঁর এক-একটা মাহফিলেতো দেড়শো মতো পুলিশই ডিউটি করতো, এতো লোকের সমাগম হতো। তাঁর যে বিকাশ তরিকার উপর, তিনি তো গাউছেল আযম আব্দুর কাদের জিলানীর তরিকার পথে কাজ করতেন, কাদরীয়া তরিকা। আশা করি আমরাও এ তরিকার উপর দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো পালন করতে পারবো।
**** রচনায় ও সংকলনে ****
ডাঃ রেজভী শরীফুল ইসলাম
(বিএসএস, ডিএইচএমএস)
(বিএসএস, ডিএইচএমএস)
Comments