Skip to main content

আমীরে মো’আবিয়া রাদীয়াল্লাহু আনহ

আমীরে মো’আবিয়া রাদীয়াল্লাহু আনহু’র প্রতি বিরুপ মন্তব্য ,গালি গুলুজ,সাহাবী নয় প্রভুতি ধারনা পোষন কারীর প্রতি ওলামায়ে কেরাম গনের মন্তব্য –

আমীরে মোআবিয়া’র শানে গুস্তাখ বা বিরুপ মন্তব্য কারি প্রসঙ্গে সকল ওলামা যেমন ওলামায়ে সলফ(পুর্বের),ওলামায়ে খলফ(পরের),আরব,মিসর তথা সমগ্র আরব বিশ্বের ওলামা’য়ে কেরাম ফতোয়া দিয়েছেন যে ‘গুস্তাখ রা অবশ্যই ইসলাম বর্হিভুত তাদের জন্য শাস্তি অপরিহার্য’ তাদের কে মজলিস হতে বিতারিত করা প্রয়োজন।

নিম্নে বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামদের মন্তব্য তুলে ধরা হলঃ-

১**ইবনে আসাকির ‘তারিখে দামাস্ক’কেতাবের ৫৯ খন্ডের ২১১ পৃষ্ঠায়,আজ রা ‘কেতাবু-শ শরীয়া’৫ম খন্ড ২৪৬৭ পৃষ্ঠায়

. فقال : على أولئك الذين يلعنون لعنة الله يشتمون يلعنون معاوية قيل للحسن : يا أبا سعيد , إن ههنا قوماً

হযরত হাসান কে বলা হল যে হে আবু সাইদ একদল লোক রয়েছে যারা হযরত মো’আবিয়া কে গালিগুলুজ করে ও অভিশাপ দেয়,তখন হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বল্লেন যারা এরুপ করে তাদের উপর আল্লাহর লানাত বর্ষিত হয়।

২**ইবনে আসাকির ‘তারিখে দামাস্ক’এর ৫৯ খন্ড ২১১ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল্লাহ বিন মোবারক ব লেছেন আমাদের মধ্যে যদি কেউ আমীরে মো’আবিয়া র দিকে বক্র ভাবে তাকাই অথবা কু-কথা বলি তা হলে অব্যশই সাহাবার শানে বে আদবী করা হবে,আর সাহাবাদের শানে যারা গুস্তাখি করল তারা জাহান্নামী।

৩**কাজী আইয়াদ ‘আশ শেফা ফি হুকুকিল মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলায় হে অ সাল্লাম’২য় খন্ড ৪৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন

« قال مالك رحمه من شتم أحداً من أصحاب النبي أبا بكر أو عمر أو عثمان أو علي أو معاوية

أو عمرو بن العاص فإن قال : كانوا على ضلال وكفر

হযরত মালিক এর মতে যদি কেহ সাহাবী’য়ে রসুলদের মধ্যে, যেমন হয রত আবুবকর,হযরত ওমর,হযরত ওসমান,হযরত আলি,হযরত মো’আবিয়া ও ওমর বিন আস প্রমুখদের গালি দেয় ,সে গোমরাহ ও কুফরের মধ্যে।

৪**ইবনে আসাকির ‘তারিখ দামাস্ক’৫৯ খন্ড ২১১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন ‘মুহাম্মদ বিন মুসলিম তিনি ইব্রাহিম বিন মসিরাহ হতে শুনেছেন-আমি হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয কে দেখেছি তিনি বেতের প্রহার এক মাত্র তাদের কেই করতেন যারা হযরত মো’আবিয়া রাদিয়াল্লাহুর শানে বে’আদবী করত।

৫**খেলাল ‘আস-সুন্নাহ’২য় খন্ড ৪৩৪ ও ৬৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন আবি আব্দুল্লাহ’কে জিজ্ঞাসা করা হল ওই সকল লোকেদের সর্ম্পকে যারা বলে ‘আমরা মো’আবিয়া কে কাতিবে ওহী ও মোমিনের মামা

বলে মানি না,প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন هذا قول سوء رديء ، يجانبون هؤلاء القوم ولا يجالسون .এটা খুবই খারাপ ধারনা,এই সকল লোকেদের বিতারিত করা ও এদেরকে বয়কট অপরিহার্য।

৬**ইমাম নেসাপুরী’র ‘ফি মাসাইলে ইবনে হানি আন-নেসাপুরি’১ম খন্ড৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যারা আমীরে মো’আবিয়ার শানে কটু কথা বলে لا يصلى خلفه ولا كرامة না তাদের পিছুনে নামায জায়েয না তাদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন

৭**ইবনে তইমিয়ার ‘মজমুউল ফাতোয়া’৩৫ খন্ড৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,যারা হযরত মো’আবিয়ার প্রতি লানত এর ধারনা রাখে তাদের প্রতি রায় প্রসঙ্গে ইবনে তইমিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রত্যুত্তরে বলেন

যারা সাহাবাদের মধ্যে কোন একজন কে যেমন মো’আবিয়া বিন আবু সুফিয়ান,ওমর বিন আস প্রমুখদের গালী দিল فإنه يستحق للعقوبة البليغة باتفاق أئمة الدين অবশ্যই সে শাস্তির যোগ্য ।আর এটাই হল সকল ওলামাদের রায়।

৮** ‘আস সুন্নাহ’২য় খন্ড৪৪৮পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে ‘হযরত আব্দুল্লা কে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন হে আব্দুল্লাহ আমার এক মামা আছে যে হযরত মো’আবিয়ার শানে গুস্তাখি করে,তার সহিত কি খাওয়া দাওয়া চলবে প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন তার সহিত খাওয়া দাওয়া করা হারাম।

এ সকল ছাড়াও আর ও বহু পুস্তক যেমন الإستيعاب 671, البداية والنهاية 8/139, طبقات الحنابلة 1/285 প্রভুতিতে ও অনুরুপ উক্তি করা হয়েছে।

উপরি উক্ত আলোচনার দারা পরিষ্কার হযরত মো’আবিয়া রাদিয়াল্লাহু শানে গুস্তাখী শরীয়ত বিরোধী কাজ।

অতএব ওই সকল ভাইদের প্রতি যারা হযরত মো’আবিয়ার প্রতি কু-মন্তব্য করেন কর জোড়ে আবেদন তারা যেন এরুপ হতে বিরত থাকেন এবং তওবা করেন।

Comments

Popular posts from this blog

নক্ শেবন্দিয়া ও মোজাদ্দেদিয়া তরিকার শাজরা

        শাজ্ রায়ে তরিকায়ে নক্ শবন্দিয়া                মোজাদ্দাদিয়ার বিবরণ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আবদুল হাইর পীরঃ হজরত মাওলানা শাহ সূফি হাফেজ মোহাম্মদ আবদুর রব সাহে...

আল্লামা রেজভি সাহেব

পরিচয়ঃ  আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে তিনি উজ্জল নক্ষত্র ছিলেন। যিনি শরীয়ত ও মারেফাতের অতি উচ্চ মর্যাদাশালী আল্লাহর অলী। তাঁর পারিবারিক সূত্র থেকে কিংবা কোন দালিলিক ভিত্তি থেকে তাঁর জন্মসাল ও তারিখ সম্পর্কে নির্ভর যোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। তাঁর জীবনী প্রকাশে আত্মনিবেদিত দীর্ঘদিন তাঁর সান্নিধ্য পাওয়া মোশাররফ ভুইয়া জানান তাঁর জন্ম হয়েছিল বৈশাখ মাসের এক তারিখ।সর্বশেষ ধারণা করা হয় তিনি হিজরী ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকে প্রায় ১২৮০ হিজরী সনে মোজাদ্দেদে জামান, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী মাদ্দা জিল্লুহুল আলী বাংলাদেশের ময়মহনসিংহ জেলার লংঙ্কাখলা গ্রামে শুভাগমন করেন। যিনির পিতা ছিলেন একজন সুযোগ্য আলেম, আল্লামা মাওলানা শহর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী এবং মাতার নাম আলিমা আক্তার রেজভী। আল্লামা রেজভী সাহেব হুজুর কেবলা এমন এক যুগ সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জমিনে আগমন করেন, যখন ইংরেজ শাসন করছিল এই ভারত উপমহাদেশে। মুসলমানদের সমাজে রাসুলে পাকের হাজার হাজার সুন্নাত দাফন করে নতুন নতুন বিদাত চালু করে। এই যুগ সন্ধিক্ষণে তিনি বাতিল ফেরকাদের সাথে মুনাজারা করে হাজার ও ম...

আল্লামা রেজভি সাহেব ২

দুনিয়া থেকে পর্দা গ্রহণের বেলায় কারামাতঃ   মোজাদ্দেদে জামান, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আল ক্বাদেরী মাদ্দা জিল্লুহুল আলী  হুজুর কেবলার দুনিয়া থেকে পর্দা করার আগে জলন্ত কারামত প্রকাশ পেয়েছে। “কারামাতুল আউলিয়াই হাক্কোন” (আকাইদে নছফী, আল্লামা সাদুদ্দিন তাফতাজানি রহঃ) অর্থাৎ অলি আল্লাহরগনের কারামত সত্য। ১)  তিনি আগেই বলতেন যে, আমি রবিবারে পর্দা করবো, ঠিকই তিনি রবি বারে পর্দা করেছেন। ২)  তিনি পর্দা করার আগের দিন,অর্থাৎ শনিবার দিন, তিনির নাতি মুফতি কুদ্দুস রেজভী, মুহাম্মদ রেজভী, মাওলানা বদরুল আমিন রেজভী, সহ আরো অনেকেই ছিল তাদেরকে ডাকিয়া বলিলেন, তোমরা শোন আগামি কাল ঈদের দিন। আর তোমরা খাসী ও আবাল কুরবানী দিও না। আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর সুন্নতকে শক্ত ভাবে আকড়ে ধরবে। ৩)  তিনি পর্দা করার আধ ঘন্টা আগেই বলে দিলেন যে, আমি আধ ঘন্টার ভিতরে পর্দা করবো, ঠিকই তিনি আধ ঘন্টার ভিতরে পর্দা করলেন। ৪)  তিনির গোসল করাইলেন আল্লামা মুফতী উহিদুর রহমান রেজভী ও আল্লামা গাজী মান্নান জিহাদী , মুফতী রমজান আলী রেজভী ও পাশে ছিলেন। যখন বাবা...